যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের আমদানি শুল্কও ‘পর্যালোচনা’ করছে বাংলাদেশ
ডিজেলের দাম ১০ টাকা কমানো সম্ভব: সিপিডি
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে 'বাজারভিত্তিক জ্বালানির মূল্য: সরকারের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য সংশোধন' শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে এই হিসাব দিয়েছে সিপিডি।
জ্বালানি খাতের সংস্কার হলে বর্তমান বিশ্ববাজার পরিস্থিতিতে ডিজেলের দাম লিটারে সাড়ে ১০ টাকা ও পেট্রোলের দাম ১১ টাকা ৩২ পয়সা কমানো সম্ভব বলে হিসাব দিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে 'বাজারভিত্তিক জ্বালানির মূল্য: সরকারের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য সংশোধন' শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠানে এই হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি।
সিপিডি বলেছে, মূল্য নির্ধারণ কাঠামোর সংস্কার হলে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১০ টাকা ৫০ পয়সা এবং পেট্রোলের দাম ১১ টাকা ৩২ পয়সা কমানো সম্ভব।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী ও প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ফয়সাল কাইয়ুম। বক্তব্য রাখেন, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম।
গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “সব খাতে সংস্কার চলছে। জ্বালানি খাতেও এর হাওয়া লাগছে। ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনা করে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করার সুযোগ রয়েছে। বিপিসির ভর্তুকির প্রয়োজন পড়ে না, কারণ তারা বড় মুনাফা করে। এই মুনাফা সমন্বয় করলে ভোক্তাস্বার্থ প্রাধান্য পাবে, এছাড়া ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুতে।”
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাজারভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মূল্য নির্ধারণ হলে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০ টাকা ৫০ পয়সা, কেরোসিনের দাম ৮ টাকা ১০ পয়সা, পেট্রোলের দাম ১১ টাকা ৩২ পয়সা এবং ফার্নেস অয়েলের দাম ৭১ পয়সা কমানো সম্ভব।
সংলাপে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করার দায়িত্ব, কর্তৃত্ব বা মূল্য নির্ধারণ মডেল তৈরি করার আইনি কাঠামো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সিপিডি বলেছে, বিইআরসি গণশুনানির মাধ্যমে ভোক্তার মতামত নেবে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠানটি দাম নির্ধারণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।
সিপিডি বলছে, প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ করতে চাইলে গ্রাহকের স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। জ্বালানি তেলের দাম গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে মূল্য বৃদ্ধি পেলে পরে তা সমন্বয় করা যেতে পারে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ম করপোরেশন (বিপিসি) কোন মডেল বা কোন আইনে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে তা পরিষ্কার নয়। দাম নিয়ে ভোক্তাও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। ২০১৫ সাল থেকে তারা ভর্তুকি পায় না, কেননা তারা মুনাফা করে। জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়িয়ে ক্ষতি সমন্বয় করে।
বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতিলিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অকটেন ১২৫ টাকা ও পেট্রল ১২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত ৩১ অক্টোবর এই দর নির্ধারণ করে দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ওইদিন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫০ পয়সা কমানো হয়েছিল। পেট্রল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
কমেন্ট