সোনার দাম ইতিহাসে সর্বোচ্চ, ভরি ১৪৫০০০ টাকা
২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯১ টাকা। রবিবার থেকে এই সোনা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকায় বিক্রি হবে। এ হিসাবে এক বছরে এই মানের সোনার দাম ভরিতে ৩৪ হাজার ২০০ টাকা বেড়েছে। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ৩১ শতাংশ।
সোনার দর চড়তে চড়তে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। রবিবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকায় বিক্রি হবে। দেশের বাজারে এর আগে কখনই সোনার দাম এত উচ্চতায় উঠেনি।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৪ টাকায় উঠেছিল। যা ছিল এতদিন সর্বোচ্চ। এরপর তা নিম্মমূখী হয়; ১ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা মধ্যে ওঠানামা করে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার রাতে এই মানের সোনার দর ভরিতে ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর মূল্যবান এই ধাতুর দর নতুন রেকর্ড গড়েছে।
বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার থেকে দেশের বাজারে এক গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে ১২ হাজার ৪২২ টাকা লাগবে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি হিসাবে প্রতিভরি কিনতে লাগবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকা।
২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা কিনতে লাগবে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকা। ১৮ ক্যারেটে লাগবে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪১ টাকা।
আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হবে ৯৭ হাজার ৪৭৬ টাকায়।
শনিবার পর্যন্ত এক গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে ১২ হাজার ২৪২ টাকা লেগেছে। প্রতিভরি কিনতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯১ টাকা।
২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা কিনতে লেগেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটে লেগেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হয়েছে ৯৬ হাজার ১৮ টাকায়।
হিসাব বলছে, দুই দিনের ব্যবধানে প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম বেড়েছে ১ হাজার ৯৯৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের বেড়েছে ১ হাজার ৭১৫ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরির দাম বেড়েছে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা।
সবশেষ দুই দিন আগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ২২ ক্যারেট সোনার দর ভরিতে ১ হাজার ৩৬৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এ নিয়ে চার দফায় প্রতিভরি সোনার দাম বেড়েছে ৬ হাজার ৬০৩ টাকা।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২৩ ডিসেম্বর কমানো হয় ১ হাজার ২৪৮ টাকা।
১৯ ডিসেম্বর ২ হাজার ৮৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; ১৫ ডিসেম্বর ১ হাজার ৭৭৩ টাকা কমানো হয়েছিল। ১২ ডিসেম্বর বাড়ানো হয় ১ হাজার ৮৭৮ টাকা।
এভাবে উঠানামার মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছিল ২০২৪ সাল। গত বছরে মূল্যবান এই ধাতুর দর ৩৫ বার বেড়েছিল; কমেছিল ২৭ বার। তবে ২০২৫ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে টানা বেড়েছে। দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিও সেই বাড়ার মধ্য দিয়েই শুরু হলো।
শনিবার রাতে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯১ টাকা। রবিবার থেকে এই সোনা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকায় বিক্রি হবে।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক বছরে এই মানের সোনার দাম ভরিতে ৩৪ হাজার ২০০ টাকা বেড়েছে। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ৩১ শতাংশ।
বিশ্ববাজারাও রেকর্ড
এদিকে বিশ্ববাজারেও সোনার দাম নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রথমবারের এক আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৮০০ ডলার স্পর্শ করেছে। মূলত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণেই দেশেও সোনার দাম বেড়েছে।
চড়তে চড়তে গত বছরের অক্টোবরের শেষের দিকে প্রতিআউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলারে উঠে গিয়েছিল। সেই দর কমতে কমতে গত ১৫ নভেম্বর ২ হাজার ৫৫০ ডলারে নেমে এসেছিল।
মাঝে কিছু দিন টানা বেড়ে ২ হাজার ৭০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে সেই সোনার দর ফের নিম্নমূখী হয়। গত কয়েক দিন ধরে আবার ঊর্ধ্বমূখী হয়েছে। আবার প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলারে উঠেছে।
শনিবার রাত ৯টায় বিশ্ববাজারে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭৯৮ ডলার ৪৯ সেন্ট।
২৯ জানুয়ারি রাতে বাজুস যখন দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭৫৭ ডলার ৭৬ সেন্ট।
এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে প্রতিআউন্স সোনার দর ৭৪১ ডলার ৮৩ সেন্ট বেড়েছে। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ববাজারে প্রতিআউন্স সোনার দাম কমতে কমতে ২ হাজার ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
কমেন্ট