সোনার দাম কমল ভরিতে ২ হাজার ৪০৩ টাকা
চার দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার আরও ২ হাজার ৪০৩ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। শুক্রবার থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৭ টাকায় বিক্রি হবে।
সোনার দাম আরও কমেছে। আট দফায় সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দর ভরিতে ১৬ হাজার টাকার বেশি বাড়ানোর পর গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ১ হাজার ১৫৫ টাকা কমানো হয়।
চার দিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার আরও ২ হাজার ৪০৩ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। শুক্রবার থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৭ টাকায় বিক্রি হবে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মানের সোনা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
চড়তে চড়তে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫২৫ টাকায় উঠেছিল। যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দুই দফায় ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা কমে সেই সোনার ভরি ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৭ টাকায় নেমে এসেছে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে। টানা আট দফায় প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছিল ১৬ হাজার ২৩৬ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছিল ১৫ হাজার ৮২ টাকা।
বাজুসের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে দেশের বাজারে এক গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে ১২ হাজার ৯৪৩ টাকা লাগবে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি হিসাবে প্রতিভরি কিনতে লাগবে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৭ টাকা।
২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা কিনতে লাগবে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটে লাগবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকা।
আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হবে ১ লাখ ১ হাজার ৭২২ টাকায়।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে ১৩ হাজার ১৪৯ টাকা লেগেছে। প্রতিভরি কিনতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭০ টাকা।
২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনা কিনতে লেগেছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটে লেগেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৮১ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪০১ টাকায়।
হিসাব বলছে, চার দিনের ব্যবধানে প্রতিভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ২ হাজার ৪০৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম কমেছে ২ হাজার ২৯৮ টাকা। ১৮ ক্যারেটের কমেছে ১ হাজার ৯৭১ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরির দাম কমেছে ১ হাজার ৬৮০ টাকা।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ২২ ক্যারেট মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমানো হয়েছিল। ২৩ ডিসেম্বর কমানো হয় ১ হাজার ২৪৮ টাকা।
১৯ ডিসেম্বর ২ হাজার ৮৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল; ১৫ ডিসেম্বর ১ হাজার ৭৭৩ টাকা কমানো হয়েছিল। ১২ ডিসেম্বর বাড়ানো হয় ১ হাজার ৮৭৮ টাকা।
এভাবে উঠানামার মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছিল ২০২৪ সাল। গত বছরে মূল্যবান এই ধাতুর দর ৩৫ বার বেড়েছিল; কমেছিল ২৭ বার।
তবে নতুন বছরে সোনার দাম টানা বাড়ছিল। প্রথম বাড়ে ১৫ জানুয়ারি, এরপর টানা আট বার বাড়ে। এরমধ্যে ২০২৫ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বেড়েছিল তিন বার। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ে পাঁচ বার।
এর পর বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের বাজারেও সোনার দর নিম্মমূখী হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২২ ক্যারেটের দাম কমে ভরিতে ১ হাজার ১৫৫ টাকা। সবশেষ বৃহস্পতিবার কমানো হয়েছে ২ হাজার ৪০৩ টাকা।
বৃহস্পতিবার রাতে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
বিশ্ববাজারেও কমেছে
এদিকে বিশ্ববাজারেও সোনার দাম বেশ খানিকটা কমেছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়ায়। ১০ ফেব্রুয়ারি তা আরও বেড়ে ২ হাজার ৯০০ ডলার আতিক্রম করে।
২১ ফেব্রুয়ারি প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৯৪০ ডলারে ওঠে। যা ছিল রেকর্ড।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বিশ্ববাজারে প্রতিআউন্স সোনার দাম ৩৬ ডলার ১৮ সেন্ট কমে ২ হাজার ৮৭৯ ডলার ৯১ সেন্টে নেমে এসেছে। শতাংশ হিসাবে কমেছে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে বাজুস যখন দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৯৩৫ ডলার ৯৯ সেন্ট।
কমেন্ট