ক্ষমতার পালা বদল: দ্বিতীয় দিনেও চাঙা পুঁজিবাজার

ক্ষমতার পালা বদল: দ্বিতীয় দিনেও চাঙা পুঁজিবাজার

বুধবার ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৬টির দামই বেড়েছে; কমেছে ১১৪টির। অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দর।

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে ক্ষমতার পালা বদলের দ্বিতীয় দিনেও চাঙাভাব অব্যাহত ছিল বাংলাদেশের পুঁজিবাজার। মূল্যসূচকের উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেনও বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গত তিন সপ্তাহের অচলাবস্থার অবসান হয় সোমবার। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে।

ক্ষমতার পালা বদলের পর প্রথম দিন মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২০০ পয়েন্ট বেড়েছিল। শতাংশ হিসাবে বেড়েছিল ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। লেনদেন হয়েছিল ৭৫০ কোটি টাকা।

সেই ধারাবাহিকতায় বুধবারও ডিএসই’র মূল্যসূচকে উল্লম্ফন দেখা গেছে। এদিনও প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২০০ পয়েন্ট বেড়েছে; শতাংশ হিসাবে বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে পর পর দুই দিন ডিএসইর সূচকে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে।

মঙ্গলবারের মতো বুধবারও সকাল ১০টায় ব্যাপক উত্থান নিয়ে শুরু হয় লেনদেন। তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও মঙ্গলবারের মতো বুধবারও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন হয়েছে। একই অবস্থা আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারেরও।

আন্দোলন দমাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বুধবার পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। তবে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা দিয়ে দেশত্যাগের পর সোমবারই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাংকসহ সব সরকারি-বেসরকারি অফিস খোলা রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে মঙ্গলবার স্বাভাবিক সময়ে শুরু হয় পুঁজিবাজারের লেনদেন।

বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪২৬ দশমিক ৪২ পয়েন্টে নিয়ে সকাল ১০টায় শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯২দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন শেষ হয়; ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৫ হাজার ৬১৮ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে।

ডিএসইর অপর দুই সূচক ডিএসইএস ৪২ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২১৯ দশমিক ১৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ সূচক ৮৭ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২২ দশমিক ১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বুধবার ডিএসইতে ৭৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মঙ্গলবার লেনদেনের অঙ্ক ছিল ৭৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা

৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৬টির দামই বেড়েছে; কমেছে ১১৪টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দর।

বুধবারও সালমানের কোম্পানিগুলোর দরপতন

মঙ্গলবারের মতো বুধবারও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের আলোচিত নাম সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরপতন হয়েছে।

একই অবস্থা বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারেরও। ব্যাংকটির মালিকানায় সরকারের অংশ বড় হলেও এতে বেক্সিমকো গ্রুপে বিনিয়োগ দিয়ে সালমান এফ রহমান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে আছেন। তার মালিকানাধীন বেক্সিমকো ফার্মা, শাইনপুকুর সিরামিক্সের শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারের দাম কমেছে ৩ টাকা। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অথচ ওষুধ খাতের আরেক কোম্পানি স্কয়ার ফার্মার দর বেড়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সা; শতাংশ হিসাবে বেড়েছে ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ।

শাইনপুকুর সিরামিক্সের শেয়ারের দর কমেছে ৯০ পয়সা বা ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সব ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়লেও আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ারের দর বুধবার ২০ পয়সা বা ২ দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধান অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানি বা মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার বা ইউনিটের দাম এক দিনে ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারে না।

তবে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদরে ফ্লোর প্রাইস এখনও কার্যকর রাখায় ওই শেয়ারের দরপতন হওয়ার সুযোগ নেই।

কোটা নিয়ে আন্দোলনের অস্থিরতার মধ্যে সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার পুঁজিবাজারে বড় দরপতন হয়। ওইদিন প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৪ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট কমেছিল। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৯৩ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে।

বিদায়ী সরকার বুধবার পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়নি।

উল্লম্ফন সিএসইতেও

বুধবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৪৫ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৫ হাজার ৯৩৮ দশমিক ২৫ পয়েন্টে। শতাংশ হিসাবে এই সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। লেনদেন হয়েছে ২২৫ কোটি ১৫লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

২৫৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬০টির। কমেছে ৭৫টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এআরএইচ ডট নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে মন্দা চলছিল। আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে পুঁজিবাজার ভালো যায় না—এমন প্রচারণাও আছে বাজারে। তাই পরিবর্তনের হাওয়ায় পুঁজিবাজারেও চাঙাভাব দেখা দিয়েছে।

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার আরও ভালো হবে বলে আশার কথা শোনার তারা।

ক্ষমতার পালা বদলে চাঙাভাব পুঁজিবাজারে পরবর্তী

ক্ষমতার পালা বদলে চাঙাভাব পুঁজিবাজারে

কমেন্ট