এফবিসিসিআই সভাপতি হচ্ছেন মাহবুবুল আলম!

এফবিসিসিআই সভাপতি হচ্ছেন মাহবুবুল আলম!

এফবিসিসিআই সভাপতি পদে নাম ঘোষণার পর মাহবুবুল আলমের হাত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদসহ সংগঠনের সাবেক সভাপতিরা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র নির্বাচনে সভাপতি পদে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলমের নাম ঘোষণা করেছে সংগঠনটির সাবেক সভাপতিরা।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই ঘোষণা থেকে ধরে নেওয়া যায়, মাহবুবুল আলমই হচ্ছেন এফবিসিসিআই’র পরবর্তী সভাপতি। কেননা, এর আগেও সাবেক সভাপতিরা বৈঠক করে যার নাম ঘোষণা করেছিলেন, তিনিই সংগঠনটির সভাপতি হয়েছিলেন।

২০২৩-২৫ মেয়াদের এই নির্বাচন আগামী ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

‘ডেভেলপিং স্মার্ট লিডারশিপ টু ক্রিয়েট স্মার্ট ইকোনুম’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এফবিসিসিআই’র সভাপতি পদে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুল আলমের নাম এ ঘোষণা দেন।

এই ঘোষণাকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সমর্থন জানান।

এর দুই দিন আগে সংগঠনটির সাবেক সভাপতিরা বৈঠক করে আগামী দুই বছরের জন্য এফবিসিসিআইর সভাপতি হিসেবে মাহবুবুল আলমকে নির্বাচিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

মাহবুবুল আলম বর্তমানে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এফবিসিসিআই’র পরিচালনা পর্ষদে মোট পরিচালক পদ ৮০টি। এসব পদ আবার দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে দেশের জেলাভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন বা চেম্বার থেকে ৪০টি পরিচালক পদ। বাকি পদ পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জন্য সংরক্ষিত।

৮০টি পরিচালক পদের মধ্যে ৪৬টিতে সাধারণ সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পান। বাকি ৩৪টি পদে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন থেকে মনোনীত পরিচালকেরা আসেন।

২০২৩-২৫ মেয়াদে চেম্বার গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হবেন। মাহবুবুল আলম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে চট্টগ্রাম চেম্বার থেকে পরিচালক মনোনীত হবেন বলে জানা গেছে।

এফবিসিসসিআই’র নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, একবার চেম্বার গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিন হয়। পরের বার অ্যাসোসিশেয়ন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হন সভাপতি।

বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দিন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হয়ে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, “ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বর্তমানে যে অবস্থানে এসেছে, সেটা প্রশংসনীয়। বেসরকারি খাতের কারণে এ অবস্থায় আসা সম্ভব হয়েছে। তবে বর্তমানে ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এগুলো সারাবিশ্বে আছে। বাংলাদেশেও কিছুটা আছে।”

তিনি বলেন, “সরকার ব্যবসায়ীদের সব সুযোগসুবিধা দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী কোরবানি ঈদের পর বসবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি সব ব্যবসায়ীর কথা শুনবেন। আশা করি, ব্যবসায়ী সমাজের জন্য সেটি অনেক ভালো হবে।”

এফবিসিসিআই সম্পর্কে তিনি বলেন, “এক সময় এফবিসিসিআইতে প্রক্সি ভোটে নেতা নির্বাচিত হতো। এখন সেই পদ্ধতি নেই। এখানে যোগ্যরাই নির্বাচিত হয়ে আসেন।”

সালমান এফ রহমান বলেন, “দীর্ঘ সময় পর চট্টগ্রাম থেকে নেতা পাচ্ছে এফবিসিসিআই। এটা একটা ভালো দিক।”

বর্তমান সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, “এফবিসিসিআইতে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। ভালো লিডার থাকলে সেগুলো সম্ভব। সরকার বলেছে, দেশের অর্থনীতির ৮২ শতাংশ বেসরকারি খাতের অবদান। এ সংগঠনে উপযুক্ত নেতা দরকার।”

সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, “এ সংগঠনে যিনি যখন দায়িত্বে থাকেন, তখন তিনি কীভাবে সংগঠনটিকে পরিচালনা করেন সেটাই বিবেচনার বিষয়। এফবিসিসিআইতে অনেক সদস্য বেড়েছে। সেবার মানও সেই হারে বাড়াতে হবে।”

এফবিসিসিআইকে পুনর্গঠন করা দরকার বলেও মত দেন তিনি।

আরেক সাবেক সভাপতি মীর নাসির বলেন, “আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নানা কারণে অর্থনীতি ক্রান্তিকাল পার করছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ব্যবসায়ী সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মাহবুবুল আলম যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন বলেই আশা করি।”

সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “মতবিরোধ ভুলে সবাইকে ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে স্মার্ট ও যোগ্য নেতৃত্ব দরকার। সেই যোগ্যতা আছে মাহবুবুল আলমের।”

শুভেচ্ছা বক্তব্যে সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও অন্য ব্যবসায়ী নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলমকে এফবিসিসিআই’র পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

আরেক সাবে সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি নেই।”

মাহবুবুল আলম বলেন, “এফবিসিসিআইর বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকবে। যেখানে সমস্যা, সেখানে সমাধান–এটাই হবে আগামী নেতৃত্বের স্লোগান।”

আগামী ৩১ জুলাই এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 ‘উপায়’ এর সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের চুক্তি পরবর্তী

‘উপায়’ এর সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের চুক্তি

কমেন্ট