কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম

কমতে শুরু করেছে কাঁচা মরিচের দাম

ফাইল ছবি

বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে পাশেই স্বপ্ন শপিং মলে রান্নার আবশ্যকীয় এই পণ্যটি ৬২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশি কাঁচা মরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। আবার ভারত থেকেও প্রচুর কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে।  এতে সবজির পাইকারি মোকামগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম আগের তুলনায় কমেছে। খুচরা পর্যায়ে দাম কমতে শুরু করেছে। দু-একদিনের মধ্যে আরও কমবে বলে জানিয়েছেন তারা। 

শেওড়াপাড়া বাজারের সবজি বিক্রেতা রাকিব এআরএইচ ডটকমকে বলেন, “গতকাল (রোববার) এক কেজি কাঁচা মরিচ ৬০০ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। আজ (সোমবার) বিক্রি করছি ৪০০ টাকায়। আড়াই’শ গ্রাম নিচ্ছি ১০০ টাকা।” 

একদিনের ব্যবধানে দাম এত কেনো কমল-জানতে চাই তিনি বলেন, “ও সব আমরা জানি না। আজ কম দামে কিনেছি, তাই কম দামে বিক্রি করছি।” 

সোমবার দুপুর পর্যন্ত বগুড়া, পাবনাসহ উৎপাদন এলাকার পাইকারি মোকামগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম কমে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এই মরিচ বাজারে এলে খুচরা পর্যায়েও দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। 

কাঁচা লঙ্কা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড 

পাগলা ঘোড়ার মত ছুঁটতে থাকা কাঁচা মরিচের দামের লাগাম টেনে ধরতে  গত ২৫ জুন আমদানির অনুুমতি দেয় সরকার। এখন প্রতিদিনই ট্রাকভর্তি কাঁচা মরিচ দেশে ঘুকছে।  

ঈদের ছুটির পাঁচ দিন পর রোববার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। এক দিনেই চারটি স্থলবন্দর দিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

সোমবার আমদানি আরও বাড়তে পারে বলে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। ঈদের আগে কাঁচা মরিচের দাম বাড়তে থাকায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আমদানির অনুমতি দেয়। অনুমতি দেওয়ার পর গত ২৬ জুন প্রথম কাঁচা মরিচ আমদানি হয়। 

ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়নি। ছুটি শেষ হওয়ার পর রোববার থেকে আবারও আমদানি শুরু হয়েছে।  

কাঁচা লঙ্কা নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ দেশে লঙ্কাকাণ্ড চলছে। রান্নার জন্য অতিপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি নিয়ে সারা দেশে অরাজক ও বিশৃঙ্খল অবস্থা দেখা দিয়েছে। ঈদের আগে থেকেই চড়তে থাকে কাঁচা মরিচের ঝাঁজ; ঈদের দুদিন আগে রাজধানীর বাজারগুলোত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় এই পণ্য। ঈদের আগের দিন তা এক লাফে ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়; ঘন্টায় ঘন্টায় বাড়তে থাকে দাম।  

মূল্যবৃদ্ধির ঝাঁজ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঝড়ের গতিতে দাম বাড়তে থাকে। কোথাও কোথাও ১ হাজার টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রির খবরও পাওয়া গেছে।  

বাংলাদেশে কাঁচা মরিচ নিয়ে এমন অস্থিরতা-হাহুতাস এর আগে কখনই দেখা যায়নি।  

বর্ষাকালে ক্ষেত নষ্ট হয় বলে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা বাড়ে প্রতিবারই। তবে এবার এই পণ্যের দাম বৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।  

ঈদের কিছু দিন আগে দাম ৪০০ টাকায় উঠে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। ওই দিন থেকেই আমদানির অনুমতি বা আইপি দেওয়া শুরু হয়।  

আমদানির এই অনুমতি আগামী তিন মাসের জন্য বহাল থাকবে।  

 বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি ইমরান মাস্টার এআরএইচ ডটকমকে বলেন, “আমাদের দেশে এ সময়ে মরিচের উৎপাদন কমে আসে। তাতে বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে যায়। তবে এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।”  

২৫ জুন আমদানির অনুমতি দিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ শাখা জানায়,  বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ২৫০ টাকার ওপরে উঠেছে বলে দেখা গেছে, যা অন্য সময়ের দামের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।  

সরকারের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে, দ্রুত বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমে আসবে।  

রাজধানীর বাদামতলীভিত্তিক আমদানিকারক মো. কামারুজ্জামান বলেন, “ভারত থেকে প্রচুর কাঁচা মরিচ আসছে। এখন দাম কমে আসবে।” 

উৎপাদন এলাকায় দাম কমছে 

দেশে মরিচ উৎপাদনের অন্যতম এলাকা পাবনার সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরিচের উৎপাদনের এই এলাকার পাইকারি হাটে গত শুক্রবার ও শনিবার কৃষকেরা ব্যাপারীদের কাছে মরিচ বিক্রি করেন ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। রোববার তা বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। 

উত্তরাঞ্চলের সবজি বিক্রির অন্যতম হাট সাঁথিয়ার করমজা চতুর হাটে সোমবার দুপুরে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

করমজা চতুর হাটের ইছামতী কাঁচামালের আড়তের ব্যবস্থাপক আবু সাঈদ এআরএইচ ডটকমকে বলেন, “আজকের হাটে মরিচের জোগান বেড়েছে। তাই দাম বেশ কমেছে। গতকাল ৩০০ টাকা ছিল। আজ ২৫০ টাকায় নেমে এসেছে। তার আগের কয়েক দিন ৫০০ টাকা ছিল। মরিচের দাম এখন পড়তির দিকে।” 

সবজির আরেক পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটেও কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। দুই দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে এসেছে। শনিবার এই হাটে এক কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৫০০ টাকা। রোববার ও সোমবার তা ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

মহাস্থান হাটের কাঁচা মরিচ ব্যবসায়ী মিনাদুল ইসলাম বলেন, “সরবরাহ ঘাটতির কারণে কাঁচা মরিচের দাম বাড়তে বাড়তে ৫০০ টাকা ছাড়িয়ে ঘিয়েছিল। রোববার থেকে কমছে। আজ সোমবার সকাল থেকেই হাটে হঠাৎ করে প্রচুর কাঁচা মরিচের সরবরাহ হয়। বেলা যত বেড়েছে, তত দাম কমেছে।” 

ভারত থেকে আমদানি 

দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকায় গত ২৫ জুন এই নিত্যপণ্য আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। সে সময় দেশে কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২৫০ টাকা কেজি। কাস্টমসের তথ্য বলছে, ঈদের আগে ২৬ জুন পর্যন্ত সোনামসজিদ ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৩৮ হাজার ৬৭১ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রোববার থেকে আবারও ভারতীয় কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। 

রোববার কাঁচা মরিচভর্তি ছয়টি ভারতীয় ট্রাক সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে ১০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ রয়েছে। ভোমরা কাস্টমসের তত্ত্বাবধায়ক ইফতেখারউদ্দিন জানিয়েছেন, ভারত থেকে আরও ট্রাক আসবে। 

গত ২৬ জুন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২৭ মেট্রিক টনের মতো কাঁচা মরিচ আমদানি হয়। এই স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক কাঁচা মরিচ আমদানি হতে পারে বলে জানা গেছে। 

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রোববার চারটি ট্রাকে করে ভারত থেকে ৪০ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। শুল্কায়ন ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের আমদানি মূল্য পড়েছে প্রায় ৫৬ টাকা। 

যদিও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেখানেও মরিচের দাম বেড়েছে। সেখানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ রুপিতে। 

 

 
 

 

 
 

 

 

গাড়ি কেনা যাবে না, সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ নয় পরবর্তী

গাড়ি কেনা যাবে না, সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ নয়

কমেন্ট